কথা


 

আদিবাসী

আমি একজন আদিবাসী বৌদ্ধ। পার্বত্য চট্রগ্রামে আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। পার্বত্য চট্রগ্রামের যে অঞ্চলে আমার বেড়ে ওঠা সেখানে নানান গোত্রের মানুষের বসবাস। যার ফলে সকল ধর্মের মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সম্মান প্রদর্শন করে বেড়ে ওঠার শিক্ষা আমি পেয়েছি। তবুও কখনও কখনও আমি এমন কিছু ঘটনা প্রতক্ষ করেছি যা মানুষে মানুষে সম্পর্কের মাঝে চিড় ধরিয়েছে। সম্পর্কের এই ফাটল অধিকাংশ সময় ধর্মকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার স্কুল, কলেজ, এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এমন বহু মানুষের সংস্পর্ষে এসেছি এবং বন্ধু হয়েছি যারা অন্য ধর্ম পালন করে। আসলে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি, এই সকল লোকদের সংস্পর্ষে আসতে পেরে, কেননা তারা কখনই আমাকে নিজেদের থেকে আলাদা করে দেখে নি। গত কয়েক বছরে এই দেশে আমরা প্রচুর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখতে পেয়েছি। এমনকি এই সকল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলাকালীন সময়েও আমাকে কোন অপ্রীতিকর অবস্থায় পরতে হয় নি। যখনই প্রয়োজন হয়েছে আমি আমার বন্ধুদের পাশে পেয়েছি। বন্ধুদের সাথে থাকাকালীন সময়ে কখনই এমন মনে হয় নি যে আমি ওদের কাছে দূরের কেউ। আমি আমার পরিবার থেকে অনেক দূরে থাকি, গত ৩-৪ বছর ধরে আমি আমার পরিবার থেকে দূরে বাস করছি। কিন্তু আমার বন্ধুরা কখনই আমাকে এটা অনুভব করতে দেয় নি যে আমি পরিবার থেকে দূরে আছি। সব সময় তারা আমার একাকীত্বকে ভরাট করেছে তাদের সাহায্য সহযোগিতা এবং উপস্থিতি দিয়ে। আমার ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আমার বন্ধুরা খুবই উৎসাহী। জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি এটা বুঝতে পারি না যে, কেন কেউ মানুষে মানুষে ভেদাভেদ তৈরি করে। জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি যে সবার পক্ষেই শান্তি বজায় রেখে একসাথে বাস করা সম্ভব। সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করার মাধ্যমেই আমরা একটি শান্তিপূর্ন সমাজ এবং শান্তিপূর্ন দেশ গঠন করতে পারব। এই আমার বিশ্বাস।

I’m an adivasi, and I am Buddhist. I was born in the Chittagong Hill Tracts and grew up there. The region where I come from is actually home to people from many different backgrounds. So I grew up knowing compassion and tolerance between people of all faiths. However, sometimes I’ve seen some truly lamentable things happening which have caused rifts between people. These rifts also end up forming along religious lines.

In my personal school, college and university life, I’ve found and made many friends who hold to other faiths. And I think I am extremely lucky to have found people who have never thought of me as someone different from themselves. We have seen entirely too much communal violence in this country in recent years. And yet even in this context, I have personally never faced any undesirable situation. My friends help me out whenever I need them to and among them, I have never felt like someone who comes from a different background. I currently live very far from my family, and have lived this far from them for the past 3 to 4 years. But my friends never let me feel like I’m alone or apart from everyone else; they’re right there with me, always. They’re really interested about my culture and are always respectful of my religion too.

Having lived this life, I cannot understand why anyone would want to create divisions between people. I have seen and know that it is possible for all of us to live together, to work together for a peaceful society, and for a peaceful country. This is what I have seen, what I know, and this is what I believe.


 
 

রক্ষণশীল

“লোকে সবসময়েই আমাকে রক্ষণশীল মনে করে কেননা আমি হিজাব পরি। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, জিন্স এবং শার্ট পরার কারনে আমি লোকের কাছে আমি একটা নিষিদ্ধ বস্তু হয়ে যাই, যেনবা তারা বুঝে উঠতে পারে না এমন একটা অচিন্তনীয় ব্যাপার কিভাবে সম্ভব। এমনকি লোকে এটাও ভাবে যে, আমি খুবই রক্ষণশীল মনোভাবের, যেখানে কিনা আমি সবসময় চেষ্টা করি সবকিছুর প্রতি গ্রহণযোগ্য মনোভাব/ খোলা মন বজায় রাখতে। ইদানীং আমার মনে হয় এই ব্যাপারটা আসলে বেশ মজার। আমার প্রতি লোকের ধারনা কি সেই বিষয়ে আমি আর এখন পাত্তা দেই না বরং লোকে যা ভাবছে তার থেকে সম্পূর্ন বিপরীত কিছু হতে বরং আমার ভালোই লাগে। এই সবকিছু থেকে আমি এক ধরনের আনন্দের অনুভূতি লাভ করি, হয়ত একটা বেমানান রসিকতা করে বসি, ফুটবল খেলি, ইদানীং গিটার বাজানোও শিখছি আর দিনশেষে আমার এইসব কর্মকান্ড মানুষজনকে অবাক করে দেয়।“

“I am always assumed to be conservative just because I wear a hijab. I think I even become some sort of a taboo when I’m wearing jeans, and wearing tucked in shirts are inconceivable! People also assume I’ll be very judgemental whereas I try my hardest to have an open mind. But I think that’s kinda fun for me though. I don’t mind it, I love being the stark opposite of what people perceive me to be. There’s a sense of amusement that I derive, like oh I cracked an improper joke, I play football, I’m learning how to play the guitar, and people are just like ‘Woah”

 
 
 
 
 
 
 
 
 


ভিলেন

“অনেক বছরের খোঁজাখুঁজির পর শেষমেশ আমি এমন একজনকে পেয়েছি যার সাথে আমি বাকিটা জীবন কাটাতে চাই। আমাদের সবার মনেই এমন একজন মানুষের প্রতিচ্ছবি থাকে যার সাথে আমরা সারা জীবন থাকতে চাই। আমার খুঁজে পাওয়া মানুষটি ঠিক তেমনই একজন। কিন্তু তার আর আমার একসাথে হওয়াটা সম্ভব হচ্ছে না কারন আমি খ্রিষ্টান এবং সে মুসলমান। ধর্মের পার্থক্যের এই ব্যাপারটা আমার জন্য কোন মাইনে রাখে না কিন্তু এটা আমার বাবার জন্য একটা বড় সমস্যা, আর আমি আমার বাবাকে কষ্ট দিতে পারব না। আমার জীবনের গল্পে আমার বাবা একজন ভিলেন, এমন ভেবে ভুল করবেন না যেন। আমার বাবার কাছে আমিই তার সমগ্র দুনিয়া, এতটাই ভালোবাসেন তিনি আমাকে। কিন্তু যদি কোনদিন আমি বাসায় একজন মুসলিম স্বামী নিয়ে হাজির হই তাহলে আমার বাবা নির্ঘাত হার্টফেল করবেন। শুধুমাত্র এই কারনে সারাটা জীবন আমি সেইসব মানুষ থেকে দূরে থেকেছি যাদেরকে আমি ভালবাসতে পারতাম। আমার জন্য বাবাকে হারানোর ভয় অন্য যে কোন ভয়কে ছাপিয়ে যায়। কিন্তু এইবার আমাকে চড়া মূল্য দিতে হবে কেননা আমি চাইনা কোন একটা বিষয় আমার ভবিষ্যৎ নির্ধারন করুক। আমি অচেনা কোন খ্রিষ্টান ছেলেকে শুধুমাত্র এই কারনে বিয়ে করতে পারব না যে তাতে আমার বাবা খুশি হবেন। চাইলেই আমি আমার ভালবাসার মানুষের হাত ধরে পালিয়ে যেতে পারি। কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখি আমার বিয়েতে আমি সুন্দর সাদা ধবধবে পোষাকে চার্চের আইল ধরে আমার ভালোবাসার মানুষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এবং পেছন ফিরে তাকালেই দেখব আমার বাবা আমার দিকে হাস্যোজ্জল মুখে তাকিয়ে আছেন। ধর্মে ধর্মে বিবাদই আমার জীবনের গল্পে আসল ভিলেন।”

“After many years of looking for someone I have finally found a person that I want to end up with. We all have a picture in our head of the person we want to be with for the rest of our lives and he is it. But I can’t be with him because I am Christian and he is Muslim. Not that it matters to me but it matters to my father and my father matters to me. Don’t get me wrong. My father is not a villain in my story. He loves me the most, I am his world. And I know the day I will bring home a Muslim husband my father will have a heart attack. That’s also the reason why I kept myself away from people I could have fallen in love with. I fear losing my father more than I fear losing anyone else. But this time the price is too high and I don’t want a singular factor to determine my future. I cannot marry a random Christian guy just because my father would be happy with it. If I want I can just run away with the man but I dream of a wedding where I walk down the aisle in a beautiful white dress to the love of my life and look back at my father smiling at me. It’s the divide between religions that is the real villain of my story.”

 
 
 
 
 
 
 
 
 


উৎসব

 

 

“আমার সবসময়েই অনেক মুসলিম বন্ধু ছিল। ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হওয়া আমার এইসব বন্ধুদের সাথে। ঈদের সময়ে আমি বরাবরই দাওয়াত পাই বন্ধুদের বাসায় যাওয়ার। এ কারনে ঈদ আমার কাছে এমন একটা উৎসব যার জন্য আমি মুখিয়ে থাকি সারাটা বছর। নতুন কাপড় চোপড় পড়ে বন্ধুদের সাথে সারা শহর ঘুরে বেড়ানোর মধ্যে এক অদ্ভূত রকমের আনন্দ আছে। ঈদের উৎসবে আমি চেষ্টা করি আমার বন্ধুদের আর ঈদ উৎসবের আনন্দঘন মুহুর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দী করার। এমনটা কখনই হয় নি যে আমি নিজেকে আলাদা কোন সত্তা অনুভব করেছি ঈদ উৎসবে। কিন্তু আমার উৎসবগুলো এর থেকে কিছুটা আলাদা। সবাই শুধুমাত্র ক্রিসমাসের ব্যাপারেই জানে, অথচ খুব কম মানুষই আমাদের জীবনে ইষ্টারের গুরুত্ত অনুভব করতে পারে। অধিকাংশ মানুষই ইষ্টার উৎসবের ব্যাপারে তেমন কিছুই জানে না প্রায়। আমি এখনও মনে করতে পারি, যখন আমি ছোট ছিলাম ইষ্টারের জন্য সাধারনত ক্লাশ মিস করতাম। এ কারনে আমার শিক্ষকেরা আমাকে জিজ্ঞেস করত কেন স্কুল খোলা থাকা সত্তেও আমি স্কুলে আসিনি? এই প্রশ্নের জবাব দেবার ভাষা আমি কখনই খুঁজে পাই নি।”

“I have always had a lot of Muslim friends. As I grew up with them, I was always invited to their homes during all the Eid festivities. It was something I always looked forward to. We used to wear new clothes and roam around the city; I took pictures of my friends and their festivities. I never felt like a stranger at these celebrations.  However, my holidays are quite different. Christmas is that one holiday everyone knows about but very few understood the significance of Easter in our lives. Most of them didn’t even know about the existence of this holiday. I remember, as a child, I used to miss school for Easter, and my teachers would ask why I skipped the class for no reason on a working day, and I never knew how to respond.”

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

‘Dirty Cultured Beings’

“একবার, আমাদের এপার্টমেন্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়ছিলো পুজোর সময়। কারন আমাদের প্রার্থনার যে শব্দ হচ্ছিলো, তা বাড়িওয়ালার দাবী অনুযায়ী গোলমাল ছিল। আমরা কিন্তু আমাদের সাধারন প্রথা মতই সব করছিলাম। অথচ, আমরা কখনো মসজিদ বা অন্য কোনও ধর্মীয় চর্চার কারনে আসা কোন শব্দ নিয়ে কখনই কোন নালিশ করি নাই।যদিও আমাদের ধর্মের কারনে, “নোংরা কালচারের লোকজন”, এমন কথাও শুনতে হয়েছে, তা কখনো গায়ে মাখি নাই। কারো সাহায্য ছাড়াই আমাদের এসবের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। মর্যাদাহানির ভয়ে, কেউ এসে আমাদের পাশে দাঁড়ায় নাই। এমন না যে এতে আমাদের তেমন কোন সমস্যা হয়েছে। আমি হয়ত আরো বেশি তেতো হয়ে যেতাম, কিন্তু আমার পাশে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল। ও মুসলিম, এবং ও সবসময়েই ছিল আমার সাথে। যখন আমি কিছু জটিলতার কারনে ইউনিভার্সিটি বদলেছিলাম, ও ছিল। ওর সাথে চলতে গিয়ে জীবন চলার পথে অনেক মানুষ পেয়েছি।”

“Once we were kicked out of our apartment while we were praying. The landowner called us out on “noise complaints” while we were just carrying out the rituals. Despite the fact that we ourselves have never complained about noises from Masjids or other forms of religious practices. There were remarks about being “dirty cultured beings” thrown towards me and my family. We dealt with it, without the help from anyone. No one would come forward or associate themselves with us. In case their reputation is hurt. We managed through it fine. And maybe I may have grown bitter if it wasn’t for my best friend. He’s Muslim, but he’s always been by my side. When I had to shift university to deal with something difficult, he was right there. He brought people into my life. He got me through it.”