ঘৃণা নয়, চলুন সংলাপ করি!

ঘৃণা নয়, চলুন সংলাপ করি!

ধর ,যদি আমি এই লেখাটা আপনাকে অপমানকর নাম ধরে ডেকে শুরু করতাম । কিংবা সবচেয়ে বাজে কথাগুলো দিয়ে শুরু করতাম কিংবা আপনার বা আপনার প্রিয় কারও নামে বাজে মন্তব্য করে শুরু করতাম!

আপনি কি তারপরও লেখাটা পড়তে থাকতেন?

যদি তারপরও আপনি পড়তে থাকেন, আপনি কি এখানে যা বলা হচ্ছে তা গুরুত্ব দিতেন? মুক্তমনা হয়ে পুরোটা পড়ে তা বুঝার চেষ্টা করতেন? আলবাত! আপনি তা করতেন না!
খুব স্বাভাবিক ভাবে দেখলে এই লেখাটা মুড়িয়ে ঝুড়িতে ফেলে দিতেন।
কটু কথা,হেয় করা , বিদ্রূপ করা,হেনস্তা করা, লাঞ্ছনা করা এসব কোন মানুষেরই প্রাপ্য না। অমরা যা বলি সেটাই আমাদেরকে জগতের সামনে পরিচিত করে তোলে ।

বিশ্বপ্রেমিক এবং জাতিবিদ্বেষবিরোধীতার বিপ্লবী হিসেবে খ্যাত নেলসান ম্যান্ডেলা একবার বলেছিলেন, “কোন লোক যে ভাষা জানে সে ভাষায় কথা বললে সে বুঝবে তার মস্তিষ্ক দিয়ে, আর তার ভাষাতে যদি তাকে কিছু বলো তবে তা সে হৃদয়ে ধারণ করবে!”

অপমানের ভাষায় গর্ব করার কিছু নেই । অপমানজনক কথায় কখনোই কাওকে অনুপ্রাণিত করা যায় না । বাস্তবে, অপমানজনক ব্যবহার এবং বাক্যগুলো আমাদের শৈশবের সেই খারাপ সময়গুলোর প্রতিচ্ছবি ।যখন, খেলার মাঠে দেখা যেত অপেক্ষাকৃত দূর্বল ছেলেমেয়েদেরকে ছোট করে কথা বলে মজা মনে করে হাসা হতো, বিদ্রূপ করা হতো, নিগৃহীত করা হতো । ভাল শিক্ষক-পিতামাতা এবং সমাজ শিশুদের মাঝে মায়া, অন্যের কথা শুনার ধর্য্য,সহানুভূতি এবং সহমর্মিতা জাগিয়ে তোলার প্রচেষ্টা করে এবং হিংসা-বিদ্বেষ, আক্রমণাত্মক মনোভাব দূর করতে সহায়তা করে থাকে। তাহলে কীভাবে এবং কোন যুক্তিতে এসব বিদ্রূপ করা-হেয় করাকে অধিকার মনে করে অনেকে , কীভাবেই বা এসব ব্যবহারকে যথাযথ বা মানবিক বলা যায়?

একটু পেছন ফিরে ১৯৩০ সালের দিকে তাকালেই দেখা যায় , একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্ধতার ভাষায় হেয় ও বিদ্রূপ করায় কি ভয়ংকর দাঙ্গা-হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হতে হয়েছিল ইতিহাসকে। বর্তমানে রোহিঙ্গুয়া ইস্যুটা একই । মানতে চাই বা না চাই, এই ঘটনাটি একটি সহজ সত্য তুলে ধরে আমাদের সামনে। সেটা হল আমাদের কথা দিয়ে আমরা এই পৃথিবীকে গড়তেও পারি আবার ধ্বংসও করে দিতে পারি ।

এসবের পরেও কিছু মানুষ আছে, যারা মনে করে আমরা যা খুশি তাই যেমন খুশি তেমনভাবে বলতে পারবে তারা। সকল মুক্তমনা মানুষই বলবে তারা বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। আমরা যদি বাক্-স্বাধীনতায় বিশ্বাস না করতাম তাহলে তো আমরা খোলাখুলিবাবে রাজনীতি,ধর্ম, ধর্মান্ধতা এবং বর্ণবাদীতার খারাপ দিক এবং আরও অনেক কিছু নিয়ে কথা বলতে পারতাম না।এসব বিষয়ে আমাদের বাক্-স্বাধীনতাই আমাদেরকে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠীত করে তোলে।
তাহলে চলুন, মনু্ষত্ব্যকে ব্যবহার করে অন্যকে হেয় করে মানবতাকে কালিমা লেপন না করি।

Imagine if I started this booklet by calling you names.What if I used the vilest language to curse you or the person you love most.

Would you continue reading?

Even if you did, would you take seriously what it had to say?Would you have an open mind to try and understand what was written?

Of course, you wouldn’t!

You would probably throw this booklet in the bin. No human being should be expected to tolerate uncivilised, degrading language, deliberate abuse and repugnant expressions.
As humans, we qualify ourselves through the use of our language, our manners and our sensibilities. We are careful about how others perceive us; what we say is how we present ourselves to the world.

The philanthropist and anti-apartheid revolutionary Nelson Mandela once said: “If you talk to a man in a language
he understands, that goes to his head. If you talk to him in his
language, that goes to his heart.”.

No-one prides themselves on the language ofinsults. Insults never appeal to anyone’s mind or heart. In reality, insulting behaviour and speech is a throwback to the worst part of our childhood. In the playground we would see bullies using abusive language to belittle others weaker than them. Good parents, teachers and communities expend great efforts to inculcate in children kindness, listening skills, empathy and teaching them not to be abusive or offensive. How then, and accordingto what logic, does it become a right to offend, and how can such behaviour be deemed in anyway appropriate, let alone civilised?

We only need to look back to the 1930’s when the free language of bigotry was used against a minority group to demonise them, which led to the horrific events of the holocaust. As shocking as this may sound, it highlights a very important point; whether we like it or not, what we say can make or break our world.

Despite this, there are those who claim that we can say whatever we want in whichever way we want. Every free-thinking person will say that they believe in the freedom of speech. If we didn’t, we wouldn’t be free to discuss politics, religion, the evil of bigotry and racism, and much more. Our freedom to speak about these things is what makes us human – let’s not use that humanity to dehumanise others.

 

(Collected and translated)

Leave a Reply