চিন্তা-চেতনা

কথা (English translation below)

ধর্ম আমার জীবনে সবসময়য়েই একটি বিশেষ স্থান দখল করে ছিল, যদিও আমি ধর্ম পালনের ব্যাপারে গুরুত্ত দেয়া শুরু করেছি বয়ঃসন্ধিকাল এ পা দেবার পরেই। সবসময়য়েই আমার বিশ্বাস ছিল যে, ইসলামের বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা থাকা সম্ভব না, সত্যিকারের ইসলাম মানেই এক ও অপরিবর্তনীয় ইসলাম। জীবনের এক পর্যায়ে যখন আমি খুব বাজে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমার জীবনে একমাত্র সান্তনা ছিল, যাদের মনোভাব ঠিক আমার মতন তাদের সাথেই চলাফেরা করা। এভাবে সময়ের চাকা যত এগিয়ে চললো ততই আমি নিজেকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে লাগলাম, নিজের মধ্যে ধারন করতে থাকলাম উগ্রবাদী চিন্তা-চেতনা। আমার ধারনা ছিল এসব করার মাধ্যমে আমি আসলে আল্লাহ এর সন্তুষ্টি অর্জন করছি।

এমনও এক সময় আসলো, যখন আমি বাজেভাবে আমার পরিবার ও বন্ধুদের দায়ী করতে লাগলাম তাদের জীবনে ধর্মীয় প্রাধান্য ঠিক না করার জন্য। ধর্মতত্ত্বের পড়াশোনায় বেশ কিছুটা সময় পার করার পরেও, আমি নিজেকে সেই সব ধারনা এবং জ্ঞানীদের আলোচনার মদ্ধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছিলাম, যাদেরকে আমি মনে করতাম সঠিক বা যাদের কথার মধ্যে আমার চিন্তাই প্রতিফলিত হত। এই সময়ে আমি এমন সকল জিনিস এড়িয়ে চলতে লাগলাম যা আমার কাছে হারাম মনে হত, এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চিন্তাও আমার জঘন্য মনে হত। মোটকথা, আমি সমাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলাম আর নির্জনে এক ধর্মীয় কল্পরাজ্যে বাস করার স্বপ্ন দেখতাম।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আর কাজ করতে শুরু করার পরেই আমার সৌভাগ্য হল বিভিন্ন যায়গা থেকে আসা চমৎকার সব মানুষের সাথে মিশবার। অন্য মানুষদের সাথে মিশে, তাদের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও জীবন পদ্ধতি সম্পর্কে জানার পরেই আমি বুঝতে পারলাম ভিন্ন মতামত কিভাবে কাজ করে। এই সময়েই আমি বুঝতে পারলাম যে দুনিয়াটা শুধুমাত্র সাদা-কালোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

এরফলে আমি আবার সমাজে মিশতে শুরু করলাম, কিন্তু এবার এক খোলা মন নিয়ে। হ্যাঁ, এখনও আমি আমার ধর্মের নিয়মকানুন ও মূল্যবোধ রক্ষা করে চলি, কিন্তু অন্য মানুষ এবং তাদের মূল্যবোধকে আমি সম্মান করতে শিখেছি।

দিনশেষে আল্লাহই হলেন শেষ বিচারক আর তিনিই সবকিছুর বিচার করবেন। এই মুহুর্তে আমার জীবনের মূলমন্ত্র হল, ইসলামকে পালন করে এবং সবকিছুর প্রতি খোলা মনোভাব রেখে জীবনকে পরিপূর্নভাবে যাপন করা।

Religion had always held a special part in my life but I only seriously started to practice it late into my teens. I used to believe Islam has only one perspective and there would be no other scope for interpretations. Going through a tough time in my life back then, the only solace I found was in being with people of a similar mentality. However, as time went on, I secluded myself from society, imposing hardline views on myself believing that I am pleasing God.

There came a point where I admonished my family members and my friends for not setting their religious priorities straight and overall not being “Islamic” enough, and not in a nice way. Despite spending a quite a bit of learning about religion I had limited myself to only those sources or scholars that I felt was right, or who I felt echoed my ideas. The idea of enrolling in a university seemed abhorrent to me at that point because I wanted to avoid all the “haraam” things I was meant to avoid. In a nutshell, I had secluded myself from society and lived like a reclusive dreaming of living in a religious utopia.

But as I joined university and started working I had the privilege of meeting many wonderful people from diverse backgrounds. Being with others, learning about other people from different cultures and ethnicities helped me see different perspectives – made me understand that not everything is black and white.

I soon got back into society, this time with an open mind. Yes, I still uphold my religious values and principles, but I have learned to respect others and understand other people’s values as well.

At the end of the day, Allah is the judge, and He will manage all affairs. Now, my main focus is to live my life to the fullest while practicing Islam with a more open mind.

Leave a Reply